যদি কেউ অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে বা প্রবেশের চেষ্টা করে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন প্রণীত হয়। ২০১৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়, বিশেষত ধারা ৫৭ যুক্ত করা হয়। এই আইনটি পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দ্বারা অনেকাংশে প্রতিস্থাপিত হয়।
যদি কেউ অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক সিস্টেমে প্রবেশ করে বা প্রবেশের চেষ্টা করে।
অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমের ডেটা মুছে ফেলা, পরিবর্তন করা বা নষ্ট করা।
ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যা মানহানিকর, মিথ্যা, অশ্লীল বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। এই ধারাটি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল কারণ এটি মুক্ত মতপ্রকাশকে সীমিত করত।
ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি, মিথ্যা Electronic Certificate তৈরি, বা সরকারি রেকর্ড পরিবর্তন।
উদ্দেশ্যমূলকভাবে কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করে ক্ষতি করা বা তথ্য চুরি করা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ ICT Act-এর বহু ধারা প্রতিস্থাপন করে প্রণীত হয়। এই আইনটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে কারণ এটি সাংবাদিক, ব্লগার ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এটি Cyber Security Act 2023 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন বিদ্যুৎ, পানি, ব্যাংক, হাসপাতাল, সরকারি সিস্টেমে ডিজিটাল আক্রমণ করা।
রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে বা বিদেশি রাষ্ট্রের সুবিধার জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রেরণ।
ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা বা জাতীয় সংগীতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো।
ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, বিরক্ত করা বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো।
অন্যের পরিচয়, ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রতারণা করা। ফেসবুকে অন্যের নামে ভুয়া একাউন্ট খোলা।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করা।
ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন তথ্য প্রকাশ।
ডিজিটাল মাধ্যমে কারো সম্পর্কে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা। Penal Code-এর মানহানি আইনের ডিজিটাল সংস্করণ।
অনুমতি ছাড়া সরকারি কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে গোপন তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ করা। Official Secrets Act-এর ডিজিটাল সংস্করণ।
অনুমতি ছাড়া কম্পিউটার বা ডিজিটাল সিস্টেমে প্রবেশ করা, ডেটা চুরি বা ক্ষতি করা।
ইচ্ছাকৃতভাবে ভাইরাস, র্যানসমওয়্যার বা অন্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার তৈরি বা বিতরণ করা।
ডিজিটাল মাধ্যমে যৌন হয়রানি, অশ্লীল বার্তা পাঠানো, অনুমতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ (Revenge Porn)।
২০২৩ সালে Digital Security Act 2018 বাতিল করে Cyber Security Act 2023 প্রণীত হয়। এই আইনটি DSA-র তুলনায় কিছুটা নমনীয় — অনেক ধারা জামিনযোগ্য করা হয়েছে এবং সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে। তবে মূল বিষয়গুলো একই রয়েছে।
| ধারা | অপরাধ | সর্বোচ্চ সাজা | জামিন |
|---|---|---|---|
| ধারা ১৭ | Critical Infrastructure আক্রমণ | ১৪ বছর / যাবজ্জীবন | অজামিনযোগ্য |
| ধারা ১৯ | ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি | ১৪ বছর | অজামিনযোগ্য |
| ধারা ২১ | মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রচারণা | ৭ বছর (কমানো হয়েছে) | জামিনযোগ্য |
| ধারা ২৫ | আক্রমণাত্মক / মিথ্যা তথ্য | ২ বছর (কমানো হয়েছে) | জামিনযোগ্য |
| ধারা ২৬ | Identity Theft | ৫ বছর | জামিনযোগ্য |
| ধারা ২৭ | Cyber Terrorism | যাবজ্জীবন | অজামিনযোগ্য |
| ধারা ২৮ | ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত | ৫ বছর (কমানো হয়েছে) | জামিনযোগ্য |
| ধারা ২৯ | অনলাইন মানহানি | ২ বছর (কমানো হয়েছে) | জামিনযোগ্য |
| ধারা ৩২ | সরকারি তথ্য হ্যাকিং | ১৪ বছর | অজামিনযোগ্য |
| ধারা ৩৩ | Hacking | ৭ বছর (কমানো হয়েছে) | জামিনযোগ্য |
| ধারা ৩৪ | Malware / Virus ছড়ানো | ৭ বছর | জামিনযোগ্য |
| ধারা ৩৮ | অনলাইন যৌন হয়রানি | ৭ বছর | অজামিনযোগ্য |
CSA 2023-এ একটি জাতীয় Cyber Security Agency গঠনের বিধান রয়েছে যা দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, incident response পরিচালনা করবে এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষণাকে সহায়তা করবে।
পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, বিতরণ ও প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণে ২০১২ সালে এই আইন প্রণীত হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ছড়ানো এই আইনের আওতায় গুরুতর অপরাধ।
ইন্টারনেট, মোবাইল বা যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, বিতরণ, ক্রয়-বিক্রয় বা ডাউনলোড করা।
শিশুদের (১৮ বছরের নিচে) যৌন বিষয়বস্তু তৈরি, সংরক্ষণ বা বিতরণ করা।
| অপরাধ | আইন | সাজা |
|---|---|---|
| অননুমোদিত টেলিযোগাযোগ সেবা পরিচালনা | ধারা ৬৬ | সর্বোচ্চ ৩ বছর ও ৩০০ কোটি টাকা |
| SIM Card জালিয়াতি ও অবৈধ SIM ব্যবহার | ধারা ৬৮ | সর্বোচ্চ ২ বছর ও ৫ লক্ষ টাকা |
| নেটওয়ার্কে অবৈধ সংযোগ বা Jamming | ধারা ৭০ | সর্বোচ্চ ৫ বছর ও ৫ কোটি টাকা |
| VoIP অবৈধ ব্যবহার | ধারা ৬৬ | সর্বোচ্চ ৩ বছর ও জরিমানা |
অনলাইনে অর্থ পাচার, Bitcoin/Cryptocurrency দিয়ে অবৈধ লেনদেন, Online Gambling এবং Fraud দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা।
অনলাইন ব্যাংকিং জালিয়াতি, ATM Skimming, Internet Banking-এ অনধিকার প্রবেশ — এগুলো CSA 2023 এবং Penal Code উভয়ের অধীনে বিচারযোগ্য।
সরকারি তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করা বা তথ্য লুকানো এই আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য। একই সাথে, সরকারি গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ করা CSA 2023 ধারা ৩২-এর অধীনে অপরাধ।
ডিজিটাল মাধ্যমে অন্যের সৃষ্টিকর্ম (গান, ছবি, ভিডিও, লেখা, সফটওয়্যার) অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা বিতরণ করা।
| অপরাধ | সাজা |
|---|---|
| Copyright লঙ্ঘন (Piracy) | সর্বোচ্চ ৪ বছর ও ২ লক্ষ টাকা |
| Software Piracy | সর্বোচ্চ ৪ বছর ও ২ লক্ষ টাকা |
| পুনরাবৃত্তিমূলক লঙ্ঘন | সর্বোচ্চ ৬ বছর ও ৪ লক্ষ টাকা |
| বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে Piracy | অতিরিক্ত জরিমানা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত |
বাংলাদেশের Cyber Security Act 2023-এ Ethical Hacking বা Security Research-এর জন্য কোনো স্পষ্ট ব্যতিক্রম নেই। তাই Ethical Hacker হিসেবে কাজ করতে হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
কোনো সিস্টেম পরীক্ষার আগে অবশ্যই সিস্টেম মালিকের কাছ থেকে লিখিত অনুমোদন (Scope of Work, Rules of Engagement) নিন। মৌখিক অনুমতি যথেষ্ট নয়।
HackerOne, Bugcrowd বা কোম্পানির নিজস্ব Bug Bounty Program-এ কাজ করুন। এই program-গুলোতে স্পষ্ট Scope ও Rules থাকে যা আপনাকে আইনি সুরক্ষা দেয়।
কোনো vulnerability পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরাসরি ও গোপনে জানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় বা পাবলিকলি প্রকাশ করার আগে তাদের ঠিক করার সময় দিন (সাধারণত ৯০ দিন)।
Vulnerability প্রমাণ করতে যতটুকু দরকার ততটুকুই করুন। User data পড়া, কপি করা বা সংরক্ষণ করা — এমনকি Ethical Hacking-এর নামেও — আইনত অপরাধ।
TryHackMe, HackTheBox, DVWA, Metasploitable, VulnHub — এই platform-গুলো সম্পূর্ণ আইনি। নিজের VM-এ lab setup করুন।
Bangladesh Computer Council (BCC) ও BGD e-GOV CIRT বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা দেখাশোনা করে। সরকারি সাইটে vulnerability পেলে সরাসরি BGD e-GOV CIRT-এ (incident@cirt.gov.bd) রিপোর্ট করুন।
| অপরাধ | ICT Act 2006 | DSA 2018 | CSA 2023 |
|---|---|---|---|
| Hacking / অনুপ্রবেশ | ৭ বছর / ১০ লক্ষ | ১৪ বছর / ১ কোটি | ৭ বছর / ১ কোটি |
| মিথ্যা / ক্ষতিকর তথ্য | ১৪ বছর (ধারা ৫৭) | ১০ বছর / ১ কোটি | ২ বছর / ৩ লক্ষ |
| Critical Infrastructure | — | যাবজ্জীবন / ১ কোটি | ১৪ বছর বা যাবজ্জীবন |
| Identity Theft | — | ৫ বছর / ৫ লক্ষ | ৫ বছর / ৫ লক্ষ |
| Cyber Terrorism | — | যাবজ্জীবন / ১ কোটি | যাবজ্জীবন / ১ কোটি |
| মানহানি | — | ৩ বছর / ৫ লক্ষ | ২ বছর / ৩ লক্ষ |
| ধর্মীয় আঘাত | — | ৭ বছর / ১০ লক্ষ | ৫ বছর / ১০ লক্ষ |
| Malware বিতরণ | ৭ বছর | ১৪ বছর / ১ কোটি | ৭ বছর / ১ কোটি |
| যৌন হয়রানি | — | ৭ বছর / ৫ লক্ষ | ৭ বছর / ৫ লক্ষ |
| সরকারি তথ্য চুরি | — | যাবজ্জীবন | ১৪ বছর (অজামিনযোগ্য) |
| বিষয় | ICT Act 2006 | DSA 2018 | CSA 2023 |
|---|---|---|---|
| বর্তমান অবস্থা | আংশিক কার্যকর | বাতিল (মামলা চলছে) | পূর্ণ কার্যকর |
| অজামিনযোগ্য ধারা | অনেক | সবচেয়ে বেশি | কম |
| সাজার তীব্রতা | মাঝারি | সর্বোচ্চ | কিছুটা কম |
| মত প্রকাশের উপর প্রভাব | মাঝারি | সর্বোচ্চ | মাঝারি |
| আন্তর্জাতিক সমালোচনা | মাঝারি | অনেক বেশি | মাঝারি |
Cyber Law বিশেষজ্ঞ আইনজীবী খুঁজুন। পুলিশের কাছে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
আপনার পক্ষের সব প্রমাণ (চুক্তিপত্র, message, email, screenshot) সংরক্ষণ করুন। কিছু delete করবেন না।
আপনি যদি সাইবার অপরাধের শিকার হন:
| সংস্থা | যোগাযোগ | কাজ |
|---|---|---|
| BGD e-GOV CIRT | incident@cirt.gov.bd / 16001 | সাইবার incident রিপোর্ট |
| Police Cyber Unit (DMP) | cybercrime@dmp.gov.bd | সাইবার অপরাধ মামলা |
| Women Cyber Support | 01320000888 | নারী সাইবার হয়রানি |
| National Human Rights Commission | nhrc.gov.bd | আইনি অধিকার লঙ্ঘন |
| BTRC Complaint Cell | complaint@btrc.gov.bd | টেলিযোগাযোগ অভিযোগ |